শনিবার । ৯ই মে, ২০২৬ । ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩

দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বৃষ্টি

গেজেট প্রতিবেদন

মাদারীপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। অনেক স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে। যুক্তরাষ্ট্রে এক মার্কিন নাগরিক রুমমেট কর্তৃক নির্মম হত্যার শিকার হয়েছেন বৃষ্টি ও তার আরেক বন্ধু জামালপুরের যুবক লিমন।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার (৯ মে) দুপুরে বৃষ্টির মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের চরগোবিন্দপুর এসে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। বাদ আছর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে তার মরদেহ দাফন করা হয়। এই মেধাবী শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে হত্যার কঠোর বিচার দাবি করেন পরিবারের সদস্য, স্বজন ও এলাকাবাসী।

পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা চরগোবিন্দপুর গ্রামের জহিরুল ইসলাম আকন (দিলু) ও আইভি বেগম দম্পতির মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। দুই ভাই বোনের মধ্যে ছোট বৃষ্টি। একটি ইন্সরেন্স কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে বাবা জহিরুল ইসলাম পরিবার নিয়ে ঢাকার মিরপুর এলাকায় বসবাস করেন। ঈদসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানেই আসেন গ্রামে। তাই ঢাকাতেই লেখাপড়া করেন বৃষ্টি।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন বৃষ্টি। পরে ফুল স্কলারশিপ নিয়ে গত প্রায় ৯ মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করতে যান তিনি। সেখানে বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন। মৃত্যুর কিছুদিন আগেই ফোনে পরিবারকে জানান আগামী ১৭ মে দেশে আসবে। বাবা, মা, ভাইসহ গ্রামে এসে স্বজনদের সঙ্গে উদযাপন করবেন ঈদ আনন্দ। সে আশা আর পূরণ হলো না। দেশে ঠিকই আসলেন, তবে লাশ হয়ে।

মেধাবী শিক্ষার্থী বৃষ্টির এমন মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ পরিবার। বৃষ্টিকে এক নজর শেষবারের মত দেখতে শনিবার সকাল থেকেই মাদারীপুরের চরগোবিন্দপুর গ্রামে বৃষ্টির বাড়িতে মানুষের ঢল নামে। দুপুরে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এলে এক হৃদয়বিদারক অবস্থা সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। বাদ আছর চর গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়। এ হত্যকাণ্ডের কঠোর বিচার দাবি করেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিহত বৃষ্টির বাবা জহিরুল ইসলাম আকন দিলু বলেন, এখন আর চাওয়ার কিছু নাই। আমার মেয়েকে ঘিরে সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। শুধু হত্যাকারীর কঠোর বিচার হোক এটা ছাড়া আর কিছু চাই না।

তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির স্বপ্ন ছিল কেমিক্যালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে গর্বের সঙ্গে দেশে ফিরে আসবে এবং দেশের জন্য অত্যাধুনিক কিছু তৈরি করে দেখাবে। বাড়িতে এসে নতুন ভবন উদ্বোধন করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ সবই শেষ। একইভাবে বিচার দাবি করে শোকে কাতর বৃষ্টির মা আইভি বেগমও।

এদিকে সঠিক বিচার পেতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানান মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা সাবাব।

উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল বৃষ্টি ও তার আরেক বন্ধু লিমন নিখোঁজ হন। এর এক সপ্তাহ পর ফ্লোরিডার টাম্পায় হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছ থেকে জামিলের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এর দুদিন পর একই এলাকার ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর থেকে বৃষ্টির দেহাবশেষ উদ্ধার করে দেশটির পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত খুনের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বর্তমানে সে কারাগারে। বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন